নাটোরে লাইন টেনেও ১৩ বছরে মেলেনি গ্যাস, অনেক কারখানাই বন্ধ

লাইন টেনে পয়েন্ট বসানোর ১৩ বছরে মেলেনি গ্যাস সরবরাহ। এতে পাইপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক জ্বালানি ব্যবহারের স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেছে নাটোরের শিল্প উদ্যেক্তাদের। এদিকে, বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে অনেক কারখানা। তবে গ্যাস সরবরাহের জন্য সরকার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

নাটোরে লাইন টেনেও ১৩ বছরে মেলেনি গ্যাস, অনেক কারখানাই বন্ধ

স্থানীয় শিল্প কারখানায় গ্যাস সরবরাহের জন্য জেলা শহর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে বাগাতিপাড়া উপজেলার হিজলি এলাকায় গ্যাস সরবরাহ লাইনের পয়েন্ট বসানো হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এর মাধ্যমে জেলার শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহের আশ্বাস দেয়া হয় ২০১১ সালে। দীর্ঘ ১৩ বছরেও শুরু করা যায়নি গ্যাস সরবরাহ।

গ্যাস সরবরাহের আশ্বাসে ওই সময় অনেক উদ্যোক্তা এখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তবে, পাইপ লাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক জ্বালানি ব্যবহার করতে না পারায় বেড়ে গেছে তাদের উৎপাদন খরচ। এ অবস্থায় জেলায় কর্মসংস্থান বাড়াতে বর্তমান সরকারের কাছে গ্যাস সরবরাহের দাবি এলাকাবাসীর।
নাটোর স্বার্থ রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব শেখ রিফাদ মাহমুদ বলেন, গ্যাসের অভাবে অনেক কলকারখানা চালু করা যাচ্ছে না। এতে নতুন উদ্যোক্তারাও আগ্রহ হারাচ্ছেন।
সুজন নাটোর জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বুলবুল আহমেদ বলেন, সরকারপ্রধানের ঘোষণার পর দেশের প্রতিষ্ঠিত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো এ অঞ্চলে কারখানা স্থাপন করে। এতে এ অঞ্চলের মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। ঘোষণার পর সরকার ১৩ বছর ক্ষমতায় থাকলেও শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ হয়নি। গ্যাস না থাকায় শিল্পমালিকরা উৎপাদন বাড়াতে পারছে না। ফলে নতুন কর্মসংস্থানও হচ্ছে না।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধুমাত্র পাইপলাইনের গ্যাস না পাওয়ায় পণ্য উৎপাদন খরচের বিশাল তারতম্য হচ্ছে পার্শ্ববর্তী জেলা বগুড়া, পাবনা ও রাজশাহীর কারখানাগুলোর সঙ্গে। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে উৎপাদনে খরচ বেড়ে গেছে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ।
বনফুল-কিশোয়ান গ্রুপের পরিচালক নজরুল ইসলাম চৌধুরী মানিক বলেন, গ্যাস সরবরাহের ঘোষণার পর তারা নাটোরে কারখানা স্থাপন করেন। তবে গ্যাস না পাওয়ায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের কারখানার চেয়ে নাটোরের কারখানায় ৪০ শতাংশ অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। ফলে নতুন করে কারখানা সম্প্রসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রাণ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইলিয়াছ মৃধা বলেন, পার্শ্ববর্তী বগুড়া,পাবনা ও রাজশাহীতে গ্যাস সরবরাহ হলেও নাটোরে গ্যাস দেয়া হয়নি। ফলে পাবনার ঈশ্বরদী ও রাজশাহীর কারখানার চেয়ে নাটোরের কারখানায় বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। তাতে উৎপাদন খরচও বেড়ে গেছে। কৃষিসমৃদ্ধ জেলা নাটোরে তাদের অনেক পণ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকলেও গ্যাস না থাকায় সেটা হচ্ছে না।
একই সংকটে বেহাল দশা জেলার বিসিক শিল্প নগরীরও। এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক কারখানা। নাটোর বিসিকের সহকারী উপ-ব্যবস্থাপক দিলরুবা দীপ্তি বলেন, গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বিসিকের প্রতিষ্ঠানগুলো বগুড়া ও পাবনা জেলার সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে ৩টি কারখানা।
তবে সম্প্রতি নাটোরে এসে সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকার বাপেক্সকে দিয়ে গ্যাসের অনুসন্ধান না করায় গ্যাসের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। নতুন করে গ্যাসের অনুসন্ধান চলছে; নতুন কূপের সন্ধান পেলেই সমস্যার সমাধান হবে। উল্লেখ্য, নাটোরে ছোট-বড় প্রায় দেড়শ শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

Leave a Comment