নাটোরে জলাবদ্ধ পতিত জমিতে পানিফল চাষ

জলাবদ্ধ পতিত জমিতে পানিফল চাষ – শীত আসতে না আসতেই শীতের পানিফল সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন নাটোরের সিংড়ার চলনবিল অঞ্চলের কৃষকরা। প্রতিবিঘা জমিতেই ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা লাভ করছেন তারা। অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় প্রায় দুই দশক ধরে এই এলাকার কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে পানিফলের চাষ করে আসছেন। তবে গত কয়েক বছরের চেয়ে এ বছর আগাম চাষ করায় শীতের শুরুতেই ফল ধরা শুরু করেছে। তাই জমি থেকে ফল সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

 

নাটোরে জলাবদ্ধ পতিত জমিতে পানিফল চাষ

 

শীত আসতে না আসতেই শীতের পানিফল সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন নাটোরের সিংড়ার চলনবিল অঞ্চলের কৃষকরা। প্রতিবিঘা জমিতেই ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা লাভ করছেন তারা। অল্প খরচে বেশি লাভ হওয়ায় প্রায় দুই দশক ধরে এই এলাকার কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে পানিফলের চাষ করে আসছেন। তবে গত কয়েক বছরের চেয়ে এ বছর আগাম চাষ করায় শীতের শুরুতেই ফল ধরা শুরু করেছে। তাই জমি থেকে ফল সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।

নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল অধ্যুষিত রামানন্দ খাজুরা ইউনিয়নের কৈগ্রামে গিয়ে দেখা যায় কৃষকরা জমি থেকে পানিফল সংগ্রহ করছেন। তারা জানান, প্রতিবছর এই গ্রামের কৃষকরা পানিফল চাষ করেন।

 

 

কৃষকরা জানান, এ বছর তাদের পানিফল চাষের জমির পরিমাণ প্রায় ২৫ বিঘা। গত দুই দশক ধরে এই গ্রামের কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে পানিফল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। শীতের শুরুতে বাজারে এই ফলের চাহিদা বেশি থাকে। দামও বেশি পাওয়া যায়। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে বেশি লাভ হওয়ার আশা করছেন তারা। এই  ফল চাষ আবাদ করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া অনেক প্রান্তিক কৃষকের সংসারে ফিরেছে সচ্ছলতা।

ওই গ্রামের কৃষক রইচ উদ্দিন জানান, ৩০ বছর আগে তিনি লক্ষ্য করেন বর্ষার এই সময় অবাধ জলরাশি শুধুমাত্র পড়ে থাকে, কোন ফসল উৎপাদন হয় না। তখন এই পানিকে কাজে লাগিয়ে পানিফল চাষ শুরু করেন তিনি। কৃষক রইচ উদ্দিনের সফলতা দেখে এখন এই গ্রামের অনেকেই ঝুঁকে পড়েছেন পানিফল চাষে।

ওই গ্রামের আরেক কৃষক আব্দুল মজিদ জানান, পুকুর, ডোবা নালায় যেখানে মাছ চাষ ও ধান চাষ হয় না বর্ষাকালে অল্প পরিমাণ পানি থাকে এমন পতিত নিচু জমিতে পানি ফলের চাষ ভালো হয়। অল্প খরচে লাভ বেশি হলেও পরিশ্রম করতে হয় বেশি এ ফল চাষে। বিশেষ করে প্রতি দিনই জমি থেকে ফল সংগ্রহ করতে হয়। প্রতি বছরই দুই এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে পানিফলের চাষই করি। এ বছর এক বিঘা জমি লিজ নিয়ে চাষ করেছি। ৭ হাজার টাকা লিজসহ আমার মোট খরচ ১২ হাজার টাকা।

নিজে পরিশ্রম করি তাই শ্রমিক খরচ কম। এবছর তিনি এ জমি থেকে খরচ বাদে ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা আয় করার আশা করছেন। পানিফল চাষি ইদ্রিস আলী জানান, এবার ফলন ও বাজার মূল্য দুটোই ভালো। ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা প্রতি মণ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। আর খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি।

Leave a Comment